চুয়াডাঙ্গায় আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে শিশু রোগী, ২২ শয্যায় ভর্তি ৭০ জন
তীব্র গরম ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে শিশুদের নানা ধরনের অসুস্থতা। এর প্রভাব পড়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। মাত্র ২২টি শয্যার এই ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ জনের বেশি শিশু ভর্তি থাকছে। ফলে শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে ওয়ার্ডের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সাত দিনে শিশু ওয়ার্ডে ৩৪২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৯ জন নতুন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জন্ডিস, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডের নির্ধারিত শয্যাগুলো রোগীতে পূর্ণ। জায়গা না থাকায় অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে শিশু তারিফ। তার মা জানান, ছেলের জ্বর না কমায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতেই অবস্থান করতে হচ্ছে তাদের।
অন্যদিকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাত দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে শিশু তানিসা। তার মা সাদিয়া আফরিন জানান, ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ভোগান্তি হচ্ছে। তবে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২২টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। এত বিপুলসংখ্যক শিশুর চিকিৎসাসেবা দিতে শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ইন্টার্নশিপে থাকা চারজন নার্স। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
রোগীর স্বজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত শিশু ওয়ার্ডে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ করা জরুরি। তা না হলে রোগীর চাপ আরও বাড়লে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, তীব্র গরমে শিশুরা দ্রুত ঘেমে যায়। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের কারণে তাদের নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি শিশুদের সরাসরি রোদের মধ্যে না রাখা, পর্যাপ্ত পানি ও তরলজাতীয় খাবার খাওয়ানো এবং বাসি খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেন।