রাজবাড়ীর কাপড় বাজারে পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই এক নারী উদ্যোক্তাকে মারধর ও লাথি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ীজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে ওই নারী উদ্যোক্তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কাদেরিয়া মার্কেটের ভেতর থেকে এক নারী পুলিশ সদস্য ভুক্তভোগী নারীকে হাত ধরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় আশপাশে কয়েকজন পুরুষ পুলিশ সদস্যও ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতিতেই হঠাৎ এক যুবক দৌড়ে এসে ওই নারীকে লাথি মারেন। পুলিশ তাকে সরিয়ে নেওয়ার পরপরই আরেক যুবক এসে ওই নারীকে ধাক্কা ও লাথি দেন।
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক নারী কর্মচারী সম্প্রতি হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে না দিয়েই চাকরি ছেড়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর থেকেই তাঁকে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ তাঁর।
ওই নারী বলেন, গত ২৩ আগস্ট সাবেক ওই কর্মচারীসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাঁর প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন। পরে গত শনিবার কয়েক শ মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
তবে সাবেক কর্মচারী তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রায় দুই মাস আগে নিয়ম মেনেই তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করে নিজেই ব্যবসা করছেন।
সাবেক ওই কর্মচারীর অভিযোগ, চাকরিতে থাকা অবস্থায় ওই নারী তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। এসব পরিস্থিতি মেনে নিতে না পেরে সম্মান রক্ষার জন্য তিনি চাকরি ছেড়ে দেন বলে দাবি করেন।
এদিকে রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক বেনজির আহমেদ বলেন, ঘটনার দিন ওই নারী হ্যান্ড মাইক নিয়ে মার্কেটের ভেতরে প্রতিবাদ মিছিল করছিলেন। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় যান।
তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ওই নারীকে রাজবাড়ীর কাপড় বাজারে আর ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। পুলিশের উপস্থিতিতে নারীকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।
তবে পুলিশের সামনে নারীকে লাঞ্ছিত করার ভিডিওটি পুলিশ যাচাই করছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভুক্তভোগী নারী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে একজন নারীকে মারধর ও লাথি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।