দক্ষিণ লেবাননে আবারও উত্তেজনার পারদ চড়েছে। নাবাতিয়েহ জেলার কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। হামলার সময় আহতদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্যের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা, আরসালিম, কাফর রুম্মানসহ আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকায় অ্যাম্বুলেন্স যাতে হামলাস্থলে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করে। ফলে উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
এর আগে আরসালিম এলাকায় একটি ভবন এবং আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। অন্তত ৩০০ মিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের।
ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্য, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাঠানোর পর পাল্টা অভিযান চালানো হয়। তাদের দাবি, একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো ইসরায়েলি সেনা হতাহত হয়নি।
তবে ইসরায়েলের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজার ৩৫৪ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩২৫ জন আহত হয়েছেন।
নাবাতিয়েহ ও আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষের মধ্যেই নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল। ইসরায়েলি বাহিনী এর আগে দাবি করেছিল, ওই অঞ্চলে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ অবস্থান থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে একের পর এক হামলা এবং পাল্টা সামরিক তৎপরতায় নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।