বাংলাদেশে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা শিশুদের সন্ধানে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ, অমীমাংসিত মামলাগুলোর পুনঃতদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মোঃ সাদাত রহমানের সভাপতিত্বে ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের উদ্যোগে এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আজ (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রোববার সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুন্তাহা নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের পর এক লাখ মানুষের পিটিশন স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে অ্যাম্বার অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সহযোগিতায় এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় মিসিং অ্যালার্ট নোটিফিকেশন (মুন অ্যালার্ট) ও টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এর পাইলট কার্যক্রম চালু করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪৪৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৯৭টি শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত জিডি দায়ের হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমানে ২ হাজার ৮০৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৪০টি নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকের সন্তান মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ধরে নিখোঁজ। সন্তান হারানোর পর দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরবেন তারা।
পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলাগুলো পুনরায় পর্যালোচনা ও তদন্তের আওতায় আনা, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর জাতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এতে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, অমীমাংসিত মামলার পুনঃতদন্ত, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান এবং শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানানো হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান এবং তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে।