প্রায় তিন দশক ধরে বন্ধ পড়ে থাকা মাগুরা টেক্সটাইল মিলে আবারও প্রাণ ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) ব্যবস্থায় মিলটি আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী ৩০ বছরের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চরকা টেক্সটাইল লিমিটেডকে মিলটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (BTMC) নিয়ন্ত্রণাধীন মাগুরা টেক্সটাইল মিলটি পরিচালনা করবে প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান চরকা টেক্সটাইল লিমিটেড। বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি টেক্সটাইল মিলগুলোকে নতুন ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, BTMC-এর বন্ধ মিল পুনরায় চালুর জন্য নেওয়া PPP পরিকল্পনার তৃতীয় পর্যায়ে মাগুরা টেক্সটাইল মিলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর যাচাই-বাছাই শেষে বেসরকারি অংশীদার হিসেবে চরকা টেক্সটাইলকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
প্রায় ১৬ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত মাগুরা টেক্সটাইল মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকার পর ১৯৯৯ সালে এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে পুরো শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে পড়ে।
নতুন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চরকা টেক্সটাইল লিমিটেড BTMC-কে এককালীন ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সাইনিং মানি দেবে। পাশাপাশি তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর প্রতি বছর ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট ফি দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। PPP কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে আরও ৫০ লাখ টাকা ডেভেলপমেন্ট ফি।
তবে এবার পুরোনো অবকাঠামো ব্যবহার করে আগের মতো উৎপাদনে ফেরার পরিকল্পনা নেই। সরকারি উদ্যোগে মিলটিকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা এই শিল্পকারখানাটি নতুন প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভিন্ন রূপ পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে BTMC-এর অধীনে ২৫টি মিল রয়েছে। এর মধ্যে বন্ধ ও লোকসানি ১৬টি মিলকে PPP মডেলের আওতায় এনে পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মাগুরা টেক্সটাইল মিলকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিলটি চালু হলে মাগুরায় সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও অন্যান্য সহায়ক খাতেও নতুন কর্মতৎপরতা তৈরি হওয়ার আশা করছেন স্থানীয়রা।
তবে মিলের আধুনিকায়ন ও নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে, পরীক্ষামূলক উৎপাদন কখন শুরু হবে এবং পুরো প্রকল্পে মোট কত টাকা বিনিয়োগ করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘদিনের বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী চালু হলে মাগুরার শিল্প খাতে এটি হতে পারে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা। এখন স্থানীয়দের অপেক্ষা—চুক্তির পর বাস্তব কাজ কত দ্রুত শুরু হয় এবং কবে আবার উৎপাদনের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে মাগুরা টেক্সটাইল মিল।