রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের তথ্য সামনে এসেছে। দেশের ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ জমেছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে।
রোববার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ সদস্য রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর বর্তমান খেলাপি ঋণের পরিমাণ এবং ব্যাংকভিত্তিক চিত্র জানতে চান। জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের হিসাব অনুযায়ী ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণ রয়েছে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
এ ছাড়া বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও সেখানেও খেলাপি ঋণ রয়েছে ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
ব্যাংকভিত্তিক হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে জনতা ব্যাংকে। ফলে ব্যাংকটির ঋণ আদায় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।
সরকারি ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ জমে যাওয়ায় ঋণ আদায়, পুনঃতফসিল এবং ব্যাংকিং খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া এই হিসাব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।