যশোরের বড়বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ দেশীয় মাছ হিসেবে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একটি মাছের আড়তকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার যশোর বড়বাজারের মাছ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযানে কর্ণফুলী ফিস নামের একটি আড়তকে জরিমানা করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, আড়তদার ভারতীয় ইলিশের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য এবং মাছ কেনাবেচার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়।
অভিযানের সময় বাজারের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা মাছের দোকানও পরিদর্শন ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটর করা হয়। একই সঙ্গে আড়ত কর্তৃপক্ষকে আমদানি করা ইলিশ নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি এবং আমদানিসংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বেনাপোল দিয়ে এসেছে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ
দেশের বাজারে ইলিশের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে মাছ আমদানি করা হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ দেশে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আমদানি করা এসব ইলিশের কিছু অংশ দেশীয়, বিশেষ করে ‘বরিশালের ইলিশ’ পরিচয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত উৎস না জেনে ক্রেতাদের বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এ অভিযান মূলত আমদানি করা ইলিশের সঠিক পরিচয়, মূল্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সামনে এনেছে।