ইতালিতে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার কয়েক দিন পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে তিনি দাবি করেছেন, ওই ঘটনার কারণে জুলাইয়ের যোদ্ধারা নয়, বরং যারা হামলা চালিয়েছে তারাই এখন অনিরাপদ অবস্থায় পড়েছে।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনী উপলক্ষে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে মেস্ত্রে শহরে গত মঙ্গলবার কয়েকজন বাংলাদেশি তার ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। হামলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সময় বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে আখ্যায়িত করে একাধিকবার আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঘটনাটিকে শুধু একজন অভিনেত্রীর ওপর হামলা নয়, বরং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইতালি থেকে দেশে ফিরে বাঁধন বলেন, বিদেশের মাটিতে এমন ঘটনা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলীয় অন্ধত্বের বাইরে এসে পরিবারের কথা ভাবার আহ্বান জানান।
বাঁধনের ভাষায়, মানুষ অনেক কষ্ট করে পরিবারের জন্য কাজ করে। তাই দলীয় পরিচয়ের কারণে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আগে নিজেদের পরিবার ও ভবিষ্যতের কথাও বিবেচনা করা উচিত।
অভিনেত্রী জানান, ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ বিষয়ে ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দেশটির সরকারের কাছ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি ইতালিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের আচরণ, রাজনৈতিক বিরোধ এবং বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি—সবকিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।