পোস্টাল ব্যালটের বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন
আইটিভিত্তিক পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির বিকল্প খুঁজছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে এ পদ্ধতি ইতিবাচক সাড়া ফেললেও বিপুল ব্যয় ও জটিলতা কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে প্রবাসীদের ভোটাধিকার অক্ষুণ্ন রেখে আরও সহজ, কম ব্যয়সাশ্রয়ী ও টেকসই কোনো বিকল্প পদ্ধতি চালু করা যায় কি না-তা খতিয়ে দেখছে ইসি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। নির্বাচন শেষ হলেও এ খাতে নিয়মিত ব্যয় অব্যাহত রয়েছে এবং চূড়ান্ত হিসাবে ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনায় এ পদ্ধতির জটিলতা এবং ব্যয়ের পরিমাণ দেশের বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
ব্যয় ও ভোটের হিসাব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে বৈধ ভোট পড়েছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি। বাতিল ভোটসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছেছে মোট ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৩টি ব্যালট। নিবন্ধন করেছিলেন ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন ভোটার, যার মধ্যে প্রবাসী ছিলেন ৭ লাখ ৬৩ হাজার ২৩৩ জন। ভোট দিয়েছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৯৫ জন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনিশ্চিত পোস্টাল ব্যালট
এমন বাস্তবতায় আসন্ন সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইটিভিত্তিক পোস্টাল ব্যালট চালু না করার দিকেই ঝুঁকছে কমিশন। কারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান আইন আরপিওতে পোস্টাল ভোটের বিধান থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ সংক্রান্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেই। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ দৈনিক যুগান্তর-কে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইটিভিত্তিক পোস্টাল ব্যালট কার্যকর করা কঠিন। কারণ এটি চালু করলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও একই ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি এ পদ্ধতিতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দেশের আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কমিশনের বৈঠক ও উপনির্বাচনের তফসিল
এদিকে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে মঙ্গলবার কমিশনের একটি অনানুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সভা শেষে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
কারিগরি প্রকল্প ও অতিরিক্ত ব্যয়
ইসি সূত্র জানায়, আইটিভিত্তিক পোস্টাল ব্যালট বাস্তবায়নে ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কারিগরি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ২০ কোটির বেশি ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পটি দুই বছর মেয়াদি। এ ছাড়া প্রবাসীদের কাছে পাঠানো প্রতিটি ব্যালটের জন্য ৭০০ টাকা এবং দেশের ভেতরের ভোটারদের জন্য ২২ টাকা করে খরচ হয়েছে। শুধু এ খাতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর বাইরে ব্যালট, খাম ও ঘোষণাপত্র ছাপাতে সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলাদা অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে।
গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ
ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, পোস্টাল ব্যালটের সঙ্গে সংযুক্ত ঘোষণাপত্রে ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হওয়ায় ভোটের গোপনীয়তা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় অনেক নিবন্ধিত ভোটার ভোট দেননি। অথচ এসব ব্যালট পাঠাতেও বিপুল ব্যয় হয়েছে। ফলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রক্রিয়া সহজ করতে বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়েছে কমিশন।
বিকল্প হিসেবে প্রক্সি ভোটিং?
বিকল্প পদ্ধতি প্রসঙ্গে কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, প্রক্সি ভোটিং পদ্ধতি নিয়ে আরও গভীরভাবে চিন্তাভাবনার সুযোগ রয়েছে। এতে ব্যয় কমবে এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে।