আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে আলোচনার পথেই সমাধান চান বিদ্যুৎমন্ত্রী
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিতর্কিত চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দিলেও আদানির বিদ্যুৎ ইস্যুতে কোনো ধরনের সংঘাতের পথে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আর স্বাধীনতা এক জিনিস। এই স্বাধীনতাকে আমরা কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দেশবিরোধী চুক্তিগুলো রিভিউ করে সমাধান বের করতে হবে। তবে আদানির বিদ্যুৎ ইস্যুতে যুদ্ধ করা যাবে না।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর্থিক ঘাটতি, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা সমস্যার কারণে খাতটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। “এই স্বাধীনতাকে আমি আবার দেশের মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই-এটাই আমার কাজ করার মূল থিম,” বলেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে তিনি জানান, রমজান, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনাকে তিনি গুরুত্ব দেন বলেও জানান।
ভর্তুকি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আগের সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও ভর্তুকি কমানো নিয়ে বড় কোনো আলোচনা করেনি। আমরা মাত্র কয়েক দিনের সরকার-এখনই হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।” তবে খাতে সাশ্রয়ের সুযোগ খুঁজে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সরাসরি এলপিজি ও এলএনজি আমদানির বিষয়েও ভাবছে বলে জানান মন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে এসব জ্বালানি অপারেটরদের সরবরাহ করা হবে, যারা পরবর্তীতে বাজারজাত করবে।
বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় বিপুল অঙ্কের দেনার বোঝা নিয়ে কাজ করছে। “এই দেনা একদিনে তৈরি হয়নি। দেশের সামগ্রিক বাজেট পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই আমাদের সমাধানের পথ বের করতে হবে,” বলেন তিনি।
বিতর্কিত আদানি বিদ্যুৎ চুক্তি প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, চুক্তিটি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে এবং একটি কমিটির প্রাথমিক রিভিউ পাওয়া গেছে। চুক্তিটি ছিল দেশবিরোধী। তবে আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান সম্ভব। আদানি ইস্যুতে যুদ্ধের কোনো সুযোগ নেই, বলেন তিনি।