বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ নিয়োগকে দেশের আর্থিক খাতের জন্য ‘হুমকিস্বরূপ’ বলে মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ ঋণখেলাপি গোষ্ঠী দেশের ব্যাংক খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রেখে গিয়েছিল। ঋণখেলাপিদের দুষ্টচক্রের কারণে বাংলাদেশকে আর্থিক খাত রক্ষায় International Monetary Fund (আইএমএফ)সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দ্বারে দ্বারে যেতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মাত্র দেড় বছরে ব্যাংক খাতকে সংকট থেকে টেনে তুলেছিল। ওই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্বিগুণ করা হয় এবং খাদের কিনারায় থাকা কয়েকটি ব্যাংক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও আর্থিক খাতে ‘জঘন্য’ পরিস্থিতির সূচনা করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিদের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী বানিয়ে আর্থিক খাতকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “আজ একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে দেশের আর্থিক খাতের অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এই নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে ঋণখেলাপি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”
এ নিয়োগের পরিণতি সাধারণ জনগণকেই ভোগ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শেখ হাসিনার শাসনামলের শেষ সময়ের মতো আর্থিক দুঃস্বপ্ন আবারও ফিরে আসতে পারে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, Bangladesh Bank Order, 1972 অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য তিনি গভর্নরের দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের আগে মোস্তাকুর রহমানকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।