আগামী বছর থেকে অমর একুশে বইমেলা আন্তর্জাতিক করার ভাবনা: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
অমর একুশে বইমেলাকে আগামী বছর থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আয়োজন করা যায় কিনা, তা সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ প্রস্তাব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আর কেবল বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। সেই ঐতিহ্য ও চেতনাকে ধারণ করেই অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।তারেক রহমান বলেন, বইমেলা আন্তর্জাতিক হলে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি জানার সুযোগ বাড়বে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় মাতৃভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষা শেখা অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি আদায়ের বিষয়েও কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দেন, অমর একুশে বইমেলা যেন শুধু একটি নির্দিষ্ট মাস বা নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং সারা বছর দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলাগুলোতে আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের উদ্যোগী ভূমিকার পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি। গবেষণাধর্মী বই প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, মেলার পরিসর বাড়লেও সেই অনুপাতে গবেষণাভিত্তিক বই ও পাঠাভ্যাস বাড়ছে কিনা-সে বিষয়টি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি স্ত্রী ও কন্যাসহ অতিথিদের নিয়ে বইমেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং বই সংগ্রহ করেন।