সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটির রানওয়েতে ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। সোমবারের এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সংঘাতে যুক্তরাজ্য সরাসরি অংশ নেবে না।
স্টারমার বলেন, ইরাক যুদ্ধের ভুল থেকে ‘শিক্ষা নেওয়া হয়েছে’। তবে রোববার গভীর রাতে তিনি জানান, ‘নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে’ ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে লন্ডন সম্মতি দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার সোমবার জোর দিয়ে বলেন, “যুক্তরাজ্য যুদ্ধে নেই।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত প্রথম দফার হামলায় অংশ না নেওয়ার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাজ্য। তবে অঞ্চলে মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার জানান, হামলাটি বিশেষভাবে আক্রোটিরিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটির রানওয়েকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। তিনি বলেন, প্রয়োজনে অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের দেশে ফেরাতে সরকার ‘সম্ভাব্য সব বিকল্প’ নিয়ে কাজ করছে। তিনি স্কাই নিউজকে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় তিন লাখ ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন, যেসব দেশের কয়েকটি বর্তমানে ইরানের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং কোথাও কোথাও আকাশসীমাও বন্ধ রয়েছে। নাগরিকদের যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবন্ধন ও স্থানীয় নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেস বলেন, মধ্যরাতের কিছু পর একটি শাহেদ মানববিহীন আকাশযান আক্রোটিরিতে ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনায় বিধ্বস্ত হয়। এতে সামান্য বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে। আরএএফ আক্রোটিরি ঘাঁটিটি সাইপ্রাসের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর লিমাসল-এর কাছে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি। সাম্প্রতিক এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।