রুমমেটকে হত্যা করে সাত টুকরা, আদালতে বললেন শাহীন-‘মারার চিন্তা ছিল না’
রাজধানীতে রুমমেটকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরা করার ঘটনায় গ্রেপ্তার শাহীন আলম আদালতে দাবি করেছেন, তার ‘মারার চিন্তা ছিল না’।
সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন-এর আদালতে রিমান্ড শুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, নিহত মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহর শরীরের খণ্ডিত অংশ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধারের পর শাহীনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান।
নিহতের বাবা হামিদ মিয়া রোববার মতিঝিল থানা-এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা ৪৩ মিনিট থেকে ১টা ৫২ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় ধারালো চাপাতি দিয়ে ওবায়দুল্লাহকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ টুকরা টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহরিন হোসেন আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তিনি বলেন, “এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আসামি ও ভিকটিম রুমমেট ছিলেন। কোনো বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে ভিকটিম ওয়াশরুমে কাপড় ধোয়ার সময় আসামি চাপাতি দিয়ে ঘাড়ে কোপ দেন। পরে মরদেহ সাত টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।”
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, নিহতের মাথা মাতুয়াইল থেকে এবং পেটের একটি অংশ তুরাগ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দেহের কিছু অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
শুনানির একপর্যায়ে বিচারক আসামিকে প্রশ্ন করেন, মারলেন কেন? প্রথমে নীরব থাকলেও পরে শাহীন বলেন, হত্যার পরিকল্পনা ছিল না। তার চলাফেরা ও আচরণ আমার খারাপ লাগত। লেনদেন ছিল। কিন্তু মারব-এমন চিন্তা ছিল না।
লাশের টুকরা কীভাবে ফেলা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমে সাইকেলে করে, পরে হেঁটে হেঁটে। আদালতে তিনি আরও জানান, ঘটনার পর আত্মসমর্পণের চিন্তাও ছিল। ঢাকায় তিনি সাড়ে চার মাস ধরে অবস্থান করছেন বলেও জানান।
সব শুনে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না-তা ক্রসচেক করে নিশ্চিত হতে।