ইরান ইস্যুতে ওবামাকে দায়ী করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা-এর নীতিকে দায়ী করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকিতে পরিণত হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপ ছিল ‘শেষ ও সর্বোত্তম সুযোগ’।
হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ওবামা প্রশাসনের নীতির ফলেই ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই অসুস্থ ও অশুভ শাসনের সৃষ্ট অসহনীয় হুমকি মোকাবিলা ও নির্মূল করতে আমাদের এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।’
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে তিনি ইরানের নৌবাহিনীকে দুর্বল করার কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। তৃতীয় লক্ষ্য ছিল, ‘বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
ট্রাম্প আরও বলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে ইরান বৈধভাবে পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার পথে এগোচ্ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান বারবার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ‘এই লোকদের সঙ্গে চুক্তি করা যায় না’-এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী ওমান জানিয়েছে, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিল। দেশটি দাবি করেছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত বন্ধ ও বিদ্যমান মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে ইরান সম্মত হয়েছিল।
ওমান আরও জানায়, হামলার সময় দুই দেশ একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ অবস্থানে ছিল।
সূত্র: Al Jazeera