এক প্রতিষ্ঠানে ৬৩ শিক্ষকের ৫৭ জনের সনদ জাল
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় জাল সনদের বিস্তার নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)-র সাম্প্রতিক অভিযানে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা-র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে কর্মরত ৬৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫৭ জনের সনদ প্রাথমিকভাবে জাল বলে শনাক্ত হয়েছে। প্রশাসনিক তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ডিআইএ কর্মকর্তারা জানান, সরাসরি তথ্য যাচাই এবং কিউআর কোড স্ক্যানিং এই দুই পদ্ধতিতে সনদ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহজনক সনদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করা হয়। লিখিতভাবে জাল প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বেতন বন্ধসহ অবৈধভাবে উত্তোলিত সরকারি অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে শুধু জাল সনদ নয়, ভুয়া অভিজ্ঞতার কাগজ, অনুমোদনহীন বিষয়ে নিয়োগ এবং একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে বহাল রাখার মতো গুরুতর অনিয়মও ধরা পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শনাক্তের পর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই আসে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সময় লাগছে।
সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ১ হাজার ৭৭২ জন জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি গত এক বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ৩৩০ জন এবং মাদরাসা শিক্ষায় ১৩৬ জনসহ মোট ৪৬৬ জনের জাল সনদ নতুন করে শনাক্ত হয়েছে।
ডিআইএ কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসি চালুর পর কিছুটা শৃঙ্খলা এলেও জালিয়াতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জাল সনদের উৎস চিহ্নিত করতে ডিজিএফআই, এনএসআই ও ডিএসবি-র সক্রিয় ভূমিকা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, সন্দেহজনক সনদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে জাল প্রমাণিত হলেই তা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও কার্যকর প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মহলে উপস্থাপন করা হয়েছে।
জনবল সংকট ও ফাইলজটের কারণে তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।