ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ক্যাম্পাস থমথমে
রাজধানীর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস গভীর রাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হলের ভেতরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলার ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর পুরো ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, রাতের দিকে লতিফ হলে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি প্রবেশ করে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় রামদা, রডসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন আহতদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে দাবি করেন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে লতিফ হলে ঢুকে তাদের কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এক কর্মীকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় সংগঠনটি।
অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং ছাত্রশিবিরের নেতারা দাবি করেন, ছাত্রদলই রাতের অন্ধকারে হলে ঢুকে শিবিরের কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। সাদিক কায়েম প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে ঘটনাটিকে ‘দখলদারিত্বের চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দেন। শিবিরের পক্ষ থেকেও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
রাতেই সাদিক কায়েম ও ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম (সিবগাতুল্লাহ) আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে লতিফ হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।