দুই বছর আগে স্বামীর পরকীয়ার কথা জানতে পারেন ইকরা, মৃত্যুকে ঘিরে মামলা
ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী-র স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইকরার পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
গত রোববার রাজধানীর পল্লবী থানা-য় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে জাহের আলভীকে এবং ২ নম্বর আসামি তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি-কে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে জাহের আলভীর সঙ্গে ইকরার বিয়ে হয়। তাঁদের পাঁচ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শাশুড়ির প্ররোচনায় ইকরাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের। বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও ফল পাওয়া যায়নি।
এজাহার অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে ইকরা জানতে পারেন তাঁর স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এরপর থেকে দাম্পত্য কলহ তীব্র আকার ধারণ করে। অভিযুক্তরা তাঁকে নিয়মিত অপমান ও জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরাকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি এক নারীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে ইকরা মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নাসরিন সুলতানা শিউলি ফোন করে ইকরার স্বজনদের জানান, রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস-এর বাসায় নিজের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ইকরা। পরে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন, অপমান ও উসকানির কারণেই ইকরা আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইকরার স্বজনরা।