সীতাকুণ্ডে শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার অভিযোগে বাবু শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটির বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে ‘শিক্ষা দিতেই’ এ নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার দুপুরে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা থেকে অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মৃত হাদেম শেখের ছেলে এবং কুমিরা এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত ইরা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বিকেলে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, ইরার বাবা মনির হোসেনের সঙ্গে বাবু শেখের পারিবারিক বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে মনির হোসেনকে শাস্তি দিতে তার শিশুকন্যাকে টার্গেট করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে নিয়ে যান বাবু শেখ। পার্কের ভেতরে নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে দেন। ইরা মারা গেছে ভেবে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে চলে যান তিনি।
তবে গলাকাটা অবস্থায় গুরুতর আহত শিশুটি জীবন বাঁচাতে বনাঞ্চল থেকে হেঁটে লোকালয়ে আসে। পরে ইকোপার্কের শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে উরুর অংশে গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রবিবার সকালে ইরার হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছেন বাবু শেখ। ফুটেজে তার হাতে একটি প্লাস্টিকের বোতলও দেখা যায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।