ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে যেভাবে বড় মূল্য দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় কথা বললেও, বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে যথেষ্ট দ্বিধা রয়েছে।
ট্রাম্প মুখে স্থলবাহিনী পাঠানোর কথাও বলেছেন এবং কোনো সমঝোতা বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাস-ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তান-এ দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা-এখনো মার্কিন রাজনীতিতে তিক্ত স্মৃতি হয়ে আছে। ওই দুই ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত কৌশলগতভাবে নিজেদের গুটিয়ে নিতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে।
আজ বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সিনেট-এ প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে প্রেসিডেন্টের এককভাবে যুদ্ধ শুরুর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হরমুজ প্রণালী অচল হয়ে পড়লে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হবে এবং তার দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপরই বর্তাতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি-এর অধ্যাপক হামিদ দাবাশি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান সহজে শর্তহীনভাবে নতিস্বীকার করবে না। তাঁর মতে, এই সংঘাত ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেয়ে ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
পাহলভি রাজবংশের উত্তরসূরি রেজা পাহলভি ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেও, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ নিয়ে বিভক্তি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বহিরাগত সামরিক চাপ ইরানের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে সাময়িকভাবে স্তিমিত করে জাতীয়তাবাদী ঐক্যকে জোরদার করতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েল আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয় আরও বিস্তৃত করতে চাইলেও সরাসরি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে সামরিক ব্যয়, অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বৈশ্বিক অস্থিরতার সম্মিলিত মূল্য দিতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখনো অনিশ্চিত-তবে সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।