দেশের অর্থনীতিতে জনগণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা। তাদের মতে, অর্থনীতিকে শুধু স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই নয়, বরং একটি প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই কাঠামোর দিকে এগিয়ে নেওয়াও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বুধবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন: স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা Centre for Policy Dialogue (সিপিডি) এবং ইংরেজি দৈনিক The Daily Star যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে না থাকলেও তা প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নীতিগত পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের দাবি।
সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে আগের অর্থবছরে তা ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতে ভোগব্যয় কমেছে এবং নতুন বিনিয়োগে অনীহা দেখা গেছে। যদিও ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, তবু তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি কমলেও মানুষের আয়ের বৃদ্ধি সেই হারে হয়নি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশে নেমে এলেও মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এখনো চাপে রয়েছে।
রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। ২০২৫ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত কমে ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম। অর্থ পাচার রোধ, ব্যাংক খাতে আস্থা পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ভোগনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, শুধু ভালো নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না, কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন তারা।