এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন, ৬০ শতাংশ করার উদ্যোগ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রস্তাব অনুযায়ী বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে দেওয়া উৎসব ভাতা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি ডিও লেটার অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিও লেটারে বলা হয়েছে, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা সেবার মান উন্নয়ন করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু অতীতে শিক্ষা খাতের উন্নয়নের তুলনায় অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো খাতে বেশি অর্থ ব্যয়ের ফলে শিক্ষার বাজেট তুলনামূলকভাবে সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে শিক্ষকদের জীবনযাত্রা ও সামাজিক অবস্থানে নানা বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং তারা আরও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা খাতের বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৫১ জন। তারা বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৬০ শতাংশ হারে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ভাতা বৃদ্ধির কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য বছরে অতিরিক্ত ১৯০ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২৮৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
ডিও লেটারে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় এ আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি তাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ১৯০ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।