বাংলাদেশ-চীন সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, যৌথ অনুষ্ঠান আয়োজন এবং শিল্পী-সংগীত দলের আদান-প্রদানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর মন্ত্রীর দপ্তরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও মিন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও চীনকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেশ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর অবদানও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশ ও চীনের প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের কথা তুলে ধরেন এবং চীনের সহযোগিতাকে স্বাগত জানান।
তিনি ভবিষ্যতে যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিল্পকলা প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আয়োজনের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক দলের বিনিময় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পারস্পরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম নাটক, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কলার আদান-প্রদান এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে দুই দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক উৎসব, শিল্পকলা প্রদর্শনী ও যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সৌজন্য সাক্ষাতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং চীন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।