রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন-ঢাকা দক্ষিণ (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি)-বর্তমানে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং তুলনামূলক কম রাজস্ব আয়ের কারণে সংস্থাগুলোর অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে সিটি করপোরেশনগুলোকে বাড়তি আর্থিক চাপ সামাল দিতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে চিহ্নিত কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র বাতিলও করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অর্থ বিভাগের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে আয় বাড়লেও ব্যয়ের পরিমাণ আরও দ্রুত বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে খরচ হয়েছে এর চেয়ে অনেক বেশি। ফলে ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে করপোরেশনকে ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) একটি অংশ ভাঙতে হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঠিকাদারি বিল পরিশোধ এবং পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও ধীরগতিতে চলছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যে চাপ তৈরি হয়েছে তার প্রভাব এখন স্পষ্ট হচ্ছে। তিনি জানান, রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও (ডিএনসিসি) আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সাবেক প্রশাসকের সময়ে বিপুল পরিমাণ টেন্ডার অনুমোদন ও কিছু প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় করপোরেশনের সাধারণ তহবিলে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল খুবই কম। তবে বিভিন্ন স্থায়ী আমানতসহ সংরক্ষিত তহবিল রয়েছে, যা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রশাসনের সময়ে অনুমোদিত কিছু প্রকল্প ও টেন্ডার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেখানে অনিয়ম বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি পাওয়া যাবে, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিটি করপোরেশনের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় না থাকলে নগর সেবায় দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং রাজস্ব সংগ্রহে আরও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।