দেশে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী রোববার (৮ মার্চ) থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হচ্ছে। এ বিষয়ে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর পরীবাগ এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন শেষে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রেশনিং ব্যবস্থার বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেল প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য দৈনিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার। এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি নেওয়া যাবে। পিকআপ ও স্থানীয় বাসের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারবাহী ট্রাক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে।
বিপিসি জানিয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভর। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কখনও কখনও আমদানি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব দেখা দেয়। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি মজুদ নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এতে কিছু ডিলার আগের তুলনায় বেশি তেল উত্তোলনের চেষ্টা করছেন বলেও সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
সরকার বলছে, সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সাময়িক রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।