বরেণ্য সংগীতশিল্পী হায়দার হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মৃত্যুর গুজব। শনিবার হঠাৎ করেই ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে তার মৃত্যুর খবর প্রচার হতে শুরু করে। এমনকি কিছু ভুয়া ফটোকার্ডে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়।
গুজবটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভক্ত-শ্রোতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই ফোন ও বার্তার মাধ্যমে শিল্পীর খোঁজ নিতে থাকেন। পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে শনিবার (৭ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বার্তা দেন হায়দার হোসেন।
পোস্টে তিনি জানান, সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে তিনি সুস্থ ও ভালো আছেন। একই সঙ্গে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সন্ধ্যা থেকে অবিরাম ফোন পাচ্ছেন। হঠাৎ এমন গুজবে তিনি বিব্রত হয়েছেন বলেও জানান।
বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে হায়দার হোসেন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘উইনিং’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ব্যান্ডটির গাওয়া ‘মন কী যে চায় বলো’ গানটি এখনও শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত।
সংগীতে পুরোপুরি যুক্ত হওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সংগীতের টানে পেশাগতভাবে ১৯৭৯ সাল থেকে সংগীতচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। কিংবদন্তি সুরকার আলম খানের সঙ্গে গিটার বাজানো এবং পপসম্রাট আজম খানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার সংগীতজীবনকে সমৃদ্ধ করে। পরবর্তীতে গায়ক, গীতিকার ও সুরকার হিসেবে আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি।
‘৩০ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি’ এবং ‘আমি ফাইসা গেছি’-তার এমন বহু গান সময়ের সীমানা পেরিয়ে এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।