ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি তেল ডিপো থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি শহরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় মিশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের পাশের নর্দমায় আগুন জ্বলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দীর্ঘ রাস্তা জুড়ে সুয়ারেজ লাইনের ভেতর দিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তেল ডিপোতে হামলার পর নিঃসৃত জ্বালানি নর্দমায় প্রবেশ করায় এই আগুনের সূত্রপাত। ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশের কারাজসহ তিনটি স্থানে অবস্থিত জ্বালানি ডিপো হামলার শিকার হয়েছে। বিস্ফোরণের পর পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিক উপাদান বৃষ্টির সঙ্গে মিশে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে ত্বক ও শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সংস্থার নির্দেশনায় বলা হয়েছে-বৃষ্টির সময় ঘরের বাইরে না বের হতে, প্রয়োজনে কংক্রিট বা ধাতব ছাদের নিচে আশ্রয় নিতে এবং বৃষ্টির পানি শরীরে লাগলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলতে। এদিকে হামলার পর তেহরান প্রদেশে ব্যক্তিগত কার্ডের মাধ্যমে দৈনিক জ্বালানি সংগ্রহের সীমা ৩০ লিটার থেকে কমিয়ে ২০ লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাদেশিক প্রশাসন জানিয়েছে, এই সীমাবদ্ধতা সাময়িক এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের কোটা পুনর্বহাল করা হবে।
কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।