বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও রোববার রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে নিয়ে দাফন করা হবে। দীর্ঘ কর্মজীবনে অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান সাংবাদিকতা শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০০৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আরও পাঁচ বছর সুপার নিউমারারি অধ্যাপক হিসেবে বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি একই বিভাগের অনারারি প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৪১ সালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের আগে প্রায় এক দশক বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিকতা করেছেন।
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গবেষণা ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। বিশ্বের অন্তত ১৫টি দেশে বিভিন্ন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং স্কলার হিসেবেও কাজ করেছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তার ৩০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
সাংবাদিকতা ও রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল তার গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য হিসেবেও একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন।