মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সামরিক নিরাপত্তা দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমানে নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজের পক্ষ থেকে করা নিয়মিত নিরাপত্তা সহায়তার অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রফতানিতে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা অসামঞ্জস্য তৈরি করেছে। ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী এসকর্ট প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সরু প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বে মোট তেল রফতানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, প্রণালিটি কার্যত বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হতে পারে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কয়েকটি জাহাজ হামলার শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
শিপিং শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী নিয়মিতভাবে শিপিং ও তেল শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছে। তবে এসব বৈঠকে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক নিরাপত্তা দিয়ে জাহাজগুলোকে প্রণালি পার করানোর মতো সক্ষমতা তাদের নেই।
এদিকে শিপিং শিল্পের প্রতিনিধিরা প্রায় প্রতিদিনই নৌবাহিনীর কাছে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপত্তা সহায়তা চেয়ে অনুরোধ জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে।