পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন বসানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ১৬টি নৌযান ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটি এই অভিযানের একটি ভিডিওচিত্রও প্রকাশ করেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট নৌযান ধ্বংসের দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে জানান, মাইন স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত ১০টি নৌযান ও জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোট আকারের নৌযান ব্যবহার করে এ কাজের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, যেগুলোর প্রতিটিতে দুই থেকে তিনটি করে মাইন বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি মাত্র প্রায় ২১ মাইল প্রশস্ত। বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
এদিকে ইরানের এমন অবস্থানের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালির নৌপথে মাইন স্থাপন করে থাকে, তাহলে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, যদি ইরান ইতোমধ্যে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে, তবে তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়াই হবে সঠিক পদক্ষেপ। তার ভাষায়, এ ধরনের উদ্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।