মিরপুরের উইকেট বরাবরই স্পিন সহায়ক হিসেবে পরিচিত। তবে সেই উইকেটেই গতির ঝড় তুলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০ দশমিক ৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাহিদ রানা। ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের টপ অর্ডার ভেঙে দেন তিনি। নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও শুরুতে উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। ফলে ইনিংসের সপ্তম ওভারেই স্পিন আক্রমণে যান অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে তিনিও তখন উইকেট তুলতে পারেননি।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাসকিনের পরিবর্তে নাহিদ রানাকে আক্রমণে আনেন মিরাজ। প্রথম স্পেলেই দলকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন এই পেসার। কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। ২৭ রান করে ফেরার আগে তিনি উদ্বোধনী জুটিতে ৪১ রান যোগ করেন।
এরপর যেন একাই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন নাহিদ। নিজের পরবর্তী চার ওভারের প্রতিটিতেই উইকেট তুলে নেন তিনি। শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং সালমান আলি আগাকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার পূর্ণ করেন এই ডানহাতি পেসার।
১৯তম ওভারে বোলিং আক্রমণে যোগ দিয়ে অধিনায়ক মিরাজও সাফল্যের দেখা পান। ওভারের শেষ বলে আব্দুল সামাদকে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ করান তিনি। পরে হোসাইন তালাতকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন। একই ওভারের শেষ বলে শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে তাসকিন আহমেদও একটি উইকেট তুলে নেন। ২৪তম ওভারে প্রথম স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। ৮২ রানে নবম উইকেট পতনের পর পাকিস্তান একশ রানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে। তবে ফাহিম আশরাফ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আবরার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে ৩২ রান যোগ করেন তিনি। ফাহিমের ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।