ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) শুরু হচ্ছে। সকাল ১১টায় সংসদ ভবনে এই অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। নতুন সংসদের যাত্রা শুরু ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা চলছে, বিশেষ করে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন তা নিয়ে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নবনিযুক্ত চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে রয়েছে নানা উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীর বিক্রম’ লাভ করেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি খেলাধুলার অঙ্গনেও পরিচিত ছিলেন; তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন তিনি। এছাড়া ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের স্বীকৃতি পান।
পারিবারিকভাবেও তার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার বাবা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর হাফিজ উদ্দিন আহমদও রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং বিভিন্ন সময় মানুষের সমর্থন অর্জন করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে জয় লাভ করেন এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের পরাজিত করেন।
এরপর ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ওই সময়ের সরকারে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে অষ্টম জাতীয় সংসদে পাটমন্ত্রী এবং পরে পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। দলীয় রাজনীতিতেও দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর লালমোহন ও তজুমদ্দিন এলাকায় দলকে সংগঠিত করতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ৮১ বছর বয়সী এই রাজনীতিক বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন এবং সপ্তমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।