দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলি ও নৈতিক চেতনা গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু ইসলাম শিক্ষা নয়, বরং দেশের সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা জাগ্রত করতে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, দেশের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনতে সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি প্রণয়ন করা হবে।
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম চালাচ্ছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে সরকার পুনরায় আবেদন আহ্বান করবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো নতুন করে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তার অংশ হিসেবে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু হয়েছে।