ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ করেছেন শুধু জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি ও স্বতন্ত্র সদস্যরা শপথ নেননি এবং এ আদেশকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়েছেন।
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গৃহীত ১৩৩টি আদেশ উপস্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) আদেশ’। এই আদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা এ আদেশের বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদকে সংবিধানবিরোধী হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্ট কার্যকর না থাকলে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, কিন্তু সরাসরি সংবিধানের ধারা পরিবর্তন করা যায় না। ফলে জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ধারাটি অসাংবিধানিক। এছাড়া পরিষদ কর্তৃক গৃহীত সংবিধান সংশোধন চূড়ান্ত ঘোষণা করা, ‘সভাপ্রধান’ বা ‘উপ-সভাপ্রধান’ নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আইনি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়াই বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই জুলাই সনদের বিষয়গুলো বিল আকারে সংসদে উত্থাপন এবং দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে আইনে রূপান্তর করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার প্রয়োজন নেই। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে জুলাই সনদ গণভোটে অন্তর্ভুক্তি তর্কসাপেক্ষ হয়ে পড়েছে। আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে ধারাবাহিকভাবে বিল আকারে উত্থাপন ও আলোচনা করা সম্ভব, যা সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রচলিত প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখবে।