ইরানি সশস্ত্র বাহিনী তাদের অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ–৪’ অভিযানের ৫৪তম ধাপ শুরু করেছে। এই ধাপে ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে সিজ্জিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের পর এই প্রথমবারের মতো সিজ্জিল ব্যবহৃত হলো।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রোববারের অভিযানের নাম দিয়েছে ‘ইয়া জাহরা’। অভিযানে সুপার-হেভি খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র (দুটি ওয়ারহেডসহ), খাইবার, গদর, ইমাদ এবং অন্যান্য ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানান, সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেল আবিব, হার্জেলিয়া ও অধিকৃত অঞ্চলের অন্তত ১৪১টি স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে।
সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র দুই ধাপবিশিষ্ট (টু-স্টেজ) এবং কঠিন জ্বালানিচালিত। এর পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার, দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ মিটার, ওজন ২৩,৬০০ কেজি এবং এটি ৭০০ কেজি ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এটিকে ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ বা ড্যান্সিং মিসাইল বলা হয়, কারণ এর উচ্চ ম্যানুভার ক্ষমতার কারণে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজে প্রতিহত করতে পারে না।
তেহরান থেকে ইসরায়েল দূরত্ব ১,৭০০ কিমি ধরলে, সিজ্জিল প্রতি মিনিটে ২৪৩ কিমি গতিতে অতিক্রম করে, যা শব্দের গতির ১২-১৩ গুণ দ্রুত। সিজ্জিল-২ সংস্করণে অ্যান্টি-রাডার আবরণ থাকায় এটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন আগ্রাসন শুরু করলে ইরান প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।