মানিকগঞ্জ শহরের একটি বিউটি পার্লারের আড়ালে নারীদের জোরপূর্বক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক নারী কর্মচারীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মানিকগঞ্জ শহরের এলজিইডি অফিসের পশ্চিম পাশে অবস্থিত রাইসা বিউটি ঘর পার্লারের মালিক ও তার সহযোগীরা ওই নারীকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা করেন। মামলার বাদী জানান, তিনি ওই পার্লারে চাকরি করতেন। কিছুদিন কাজ করার পর পার্লারের মালিক রত্না ইয়াছমিন ও তার সহযোগীরা তাকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে চাপ দেন। গত ১১ মার্চ তার ১৩ বছর বয়সী ছোট বোন পার্লারে তাকে দেখতে এলে অভিযুক্তরা তাকেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। এতে তিনি ও তার বোন রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ১৪ মার্চ রাত আনুমানিক ১টার দিকে আসামিরা তার বাসায় গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। পরে তাকে পার্লারে নিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়, হাত শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। তিনি বাড়ি না ফেরায় তার স্বজনরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে সদর উপজেলার পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রামের পার্লার মালিক রত্না ইয়াছমিন, তার ছেলে মো. তুষার রহমান (২৬), দেড়গ্রাম এলাকার তাজনীন আক্তার চাঁদনী (২৬), পশ্চিম সেওতা এলাকার রিফাত (২৫), রজ্জব (২৫) ও বাইচাইল গ্রামের জহিরুল ইসলাম টিপু (৪৫)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।