বিতর্কিত মডেল ও মিস আর্থ ২০২০ মেঘনা আলম জানিয়েছেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় গোয়েন্দা পুলিশ বলেছিল-বিশ্বে বাংলাদেশকে একমাত্র সাকিব আল হাসানই ব্র্যান্ডিং করছেন। আলোচিত এই মডেল নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুদিনের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, মিস বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন আসলে কী করে? কেন সরকারি সংস্থা, কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ও দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখে? জবাবে মেঘনা আলম বলেন, ছোটবেলা থেকেই বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ও বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝেছেন-বিশ্ববাসীর অনেকেই বাংলাদেশকে চেনেই না। যারা চেনে, তারা কেবল দারিদ্র্য, বন্যা, ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ আর পিছিয়ে পড়া দেশের ছকে বাংলাদেশকে দেখে। এমনকি অনেকে মনে করে বাংলাদেশ সবসময় ভারতের নিচে পড়ে আছে।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন- লন্ডনের বেশিরভাগ ‘ইন্ডিয়ান’ রেস্টুরেন্ট আসলে বাংলাদেশিদের। বিশ্বের অনেক বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি হলো ফ্যাশন, গ্ল্যামার, সৌন্দর্য, আধ্যাত্মিকতা, খাদ্য ও সম্প্রীতির রঙিন মিশ্রণ। বাংলাদেশের মানুষ বহুভাষিক, উদ্যোক্তা ও অভিযোজনক্ষম। তাই তার কাজ হলো বাংলাদেশকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা, ইতিবাচকভাবে রিব্র্যান্ডিং করা। করুণা চাওয়ার দেশ হিসেবে নয়, বরং সমান মর্যাদার একটি রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড় করানো। তিনি আরও জানান, তিনি এসডিজি-সমন্বিত নারী নেতৃত্বের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এক ধরনের ‘অল্টার-ডিপ্লোম্যাসি’ পরিচালনা করছেন। মেঘনা আলমের দাবি, তার এসব কথা শুনে ডিবি কর্মকর্তারা বলেন, এসব অর্থহীন, কারণ বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করছেন কেবল সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
এ প্রসঙ্গে মেঘনা মন্তব্য করেন-আমেরিকাকে যদি কেউ বলে, তোমাদের সিলিকন ভ্যালির প্রয়োজন নেই, কারণ তোমাদের বিয়ন্সে আছে; কিংবা ফ্রান্সকে বলে, তোমাদের ডিপ্লোম্যাসি দরকার নেই, এমবাপ্পে আছেন তো-তাহলে কেমন লাগবে?