ব্যবসায়ীরা যে প্রক্রিয়ায় ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছেন, তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভোজ্য তেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “ব্যবসায়ীরা যখন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, সরকার সে বিষয়ে কিছুই জানত না। আগেও অনুমতি ছাড়াই দাম বৃদ্ধির চেষ্টা হলে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছিল, ফলে আগের দামেই বাজারে তেল বিক্রি হয়েছে প্রায় আড়াই মাস।”
ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নিশ্চিতভাবেই নেব। আইনসঙ্গত সব ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।” তবে যদি দাম বাড়ানোর যৌক্তিক কারণ থাকে, সেটি আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
ব্যবসায়ীদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আছে কি না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “নিয়ন্ত্রণ আছে কি নেই, সেটা আমাদের পদক্ষেপ দেখলেই বুঝতে পারবেন। নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই আছে।”
সম্প্রতি কোনো সরকারি ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিন তেলের দাম আবারও বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। লিটারপ্রতি ৯ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৮ টাকা, যা এতদিন বিক্রি হচ্ছিল ১৮৯ টাকায়। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯২২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৬৫ টাকা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কিছুই জানত না। পরে আমরা জেনেছি যে কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ ধরনের সম্মিলিত পদক্ষেপ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব। ব্যবসায়ীদের এ সিদ্ধান্তের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।”
আগেও অনুমতি ছাড়া দাম বৃদ্ধি
গত অক্টোবরেও একইভাবে অনুমতি ছাড়াই তেলের দাম বাড়িয়েছিল কোম্পানিগুলো। তখন সরকার জানায়, এভাবে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। পরে চাপের মুখে ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
ক্যাবের মতামত: আইনের ব্যত্যয়, বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই তেলের দাম বাড়ানো স্পষ্টতই আইনের ব্যত্যয়। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বাজার তদারকি শিথিল হয়েছে। দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করা জরুরি।”