রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে ফাতেমা আক্তার নামে এক স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার রেস্তোরাঁকর্মী মিলন মল্লিকের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন দাবি করেছে, নিহত ফাতেমার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্ক থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের দিন ফাতেমার বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে বাসায় ঢোকে মিলন। সে সময় সে ফাতেমাকে তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে বলে। কিন্তু ফাতেমা তাতে রাজি হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে মিলন তাকে গলা কেটে হত্যা করে।
গ্রেপ্তারের পর মিলন র্যাবকে জানায়, ফাতেমার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং বিভিন্নভাবে তাদের যোগাযোগ চলতো। হত্যার আগেও ফাতেমা নাকি তাকে জানিয়েছিল, পরিবারের সদস্যরা গ্রামে গেলে তারা পালিয়ে যাবে। সেই বিশ্বাস থেকেই ঘটনার দিন সে বাসায় আসে। তবে ফাতেমা পালাতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
মিলনের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাতেমা তাকে কটাক্ষ করে জানায়—সে তার বাবার রেস্তোরাঁর কর্মচারী আর সে মালিকের মেয়ে। এই কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফাতেমার গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনার পর সে পালিয়ে বাগেরহাট জেলার সদর থানার বড় সিংগা এলাকায় আত্মগোপন করে।
তবে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি সে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে র্যাব বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসা থেকে ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রামপুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত ফাতেমা আক্তার বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে মা-বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে দক্ষিণ বনশ্রীতে বসবাস করত। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়।