গণভোট শুধু আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজশাহী হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে আয়োজিত রাজশাহী বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে এবং বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন কীভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে—এসব মৌলিক সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেটের মাধ্যমেই নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গণভোট আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের মতামতকে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এ কারণে নাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব গণভোটে অংশগ্রহণ করে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া।
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু ভিন্নমত থাকলেও গণভোট আয়োজনের প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বিমত নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোট জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, মানুষ ভোট দিতে চাইলেও বারবার সেই পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পূর্ণভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো নিয়ে মতামত দেয়, তাহলে ভবিষ্যতের সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হতে বাধ্য হবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস ছালাম খান।