জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত সংস্কারের পক্ষে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—যে দলকেই ভোট দেওয়া হোক না কেন, সংস্কারের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান জানান, আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। তিনি বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে বসে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবো এবং তা সাংবাদিকদের জানানো হবে।”
ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা ও সংস্কারের শর্ত প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশ টেকসই ও স্থিতিশীল সমাজ পায়নি। নির্বাচনের পর দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি তিনটি প্রধান শর্ত তুলে ধরেন। সেগুলো হলো—দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন, সবার জন্য সমান ও স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করা এবং সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়ন।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকতে চায় না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই দলের নীতি। যুবসমাজ ও নারীদের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ একটি নিরাপদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে—এ বিষয়ে জামায়াতের শতভাগ আস্থা রয়েছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে তিনি জানান, এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ২০০ প্রতিনিধি জেলা ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন।
সবশেষে তিনি বলেন, প্রশাসন এবার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে—এটাই প্রত্যাশা। অন্যথায় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ পথে আসতে বাধ্য করা হবে।