গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি তেহরানের অভিযোগ, এই আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উসকানি ও মদত দিচ্ছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে একটি নতুন সমন্বয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন এই সামরিক স্থাপনায় ১৭টি দেশ সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। কেন্দ্রটির নাম ‘মিডল ইস্টার্ন এয়ার ডিফেন্স কম্বাইন্ড ডিফেন্স অপারেশনস সেল (এমইএডি-সিডিওসি)’, যা কম্বাইন্ড এয়ার অপারেশনস সেন্টারের (সিএওসি) অধীনে পরিচালিত হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদার দেশগুলোর সামরিক সদস্যরা যুক্ত থাকবেন।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার বলেন, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমন্বয়কে নতুন মাত্রা দেবে। একই সঙ্গে ইউএস এয়ার ফোর্স সেন্ট্রালের কর্মীরা যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনায় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন।
এদিকে, মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করতে শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। যদিও সেই পদক্ষেপের ধরন সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এই বক্তব্যকে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের জাতিসংঘ মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশল নতুন নয় এবং আগেও ব্যর্থ হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, পরিকল্পিত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, চলমান দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং সরকার টানা পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করছে। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, বৃহস্পতিবার থেকে রাতভর বিক্ষোভের পর তারা দেশজুড়ে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
তেহরানের প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, বিক্ষোভে জড়িত কয়েকজনকে ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের মামলা করা হবে। এর আগে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে’—যা ইরানের মতে বিদেশি হস্তক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, ফক্স নিউজ