ওয়াশিংটন যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানা হবে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর উদ্দেশে এই বার্তা পাঠিয়েছে তেহরান।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও তুরস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে—ওয়াশিংটন যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে এসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি—যুক্তরাষ্ট্র আঘাত করলে তার মূল্য দিতে হবে তাদের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোকে।”
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান অস্থিরতায় ইরানে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটি দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে চলমান প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আপাতত স্থগিত রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার রাতে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানে সরকার পতন বা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্রিফ করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সরাসরি সংঘর্ষ হয়েছিল।
মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র “খুব কঠোর পদক্ষেপ” নেবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সহায়তা আসছে”—তবে কী ধরনের সহায়তা, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
রয়টার্সের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এই ঘাঁটিতেই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একইসঙ্গে আব্বাস আরাগচি ইউএই ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসব দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
ইরানি গণমাধ্যমে বলা হয়, আরাগচি ইউএইর পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদকে জানিয়েছেন—পরিস্থিতি বর্তমানে “নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে এবং ইরান যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরান থেকে তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারপন্থীর মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। তেহরান এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।