জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও এলপিজি গ্যাসের সংকটে বরিশালের হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রান্নার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী খাবারের দাম বাড়িয়েছেন। আবার কোথাও দাম অপরিবর্তিত রেখে খাবারের আকার ছোট করে দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জ্বালানি তেল, এলপিজি, কাঁচামাল ও কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে খাবার বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও।
বরিশাল নগরীতে বর্তমানে এলপিজি গ্যাসের সংকটও তীব্র। অধিকাংশ খুচরা দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। হাতেগোনা কয়েকটি দোকানে পাওয়া গেলেও এর দাম নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকার বেশি।
এলপিজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এর সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির কারণে সংকট আরও বেড়েছে।
সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার জুয়েল বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা বেড়েছে। আগে যেখানে একটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ১ হাজার ৬৪০ টাকা। সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
কাউনিয়ার বাসিন্দা আলামিন বলেন, দোকানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ঘোরার পর বেশি দামে একটি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে।
এদিকে ২০ সেপ্টেম্বর দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নার খরচও বেড়ে যায়।
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী নুরু মিয়া বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর রান্নার খরচ অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে এলপিজি গ্যাসের দাম ও সংকট—দুই দিক থেকেই চাপ তৈরি হয়েছে। কর্মচারীর বেতন, কাঁচামাল ও রান্নার খরচ মিলিয়ে আগের দামে খাবার বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, আগে ১০ টাকার পরোটা এখন ১৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ৫ টাকার পুরি ও শিঙাড়ার দাম বাড়ানো হয়নি। তবে দাম অপরিবর্তিত রাখলেও এগুলোর আকার কিছুটা ছোট করা হয়েছে। মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন খাবারের দামও জনপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদারকি চালানো হবে।