রাজধানীর মেট্রোরেল দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা দিলেও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ওঠানামা ও অপেক্ষার সুবিধা না থাকায় বাড়ছে ভোগান্তি।
রাজধানীর বিজয় স্মরণী স্টেশনে কথা হয় ষাঠোর্ধ্ব মমিনুল ইসলামের সঙ্গে। সিঁড়ি বেয়ে উঠে ঘেমে একাকার তিনি। অপেক্ষার জায়গায় বসার ব্যবস্থা না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। মাথার উপর কোন ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় অস্বস্তি দ্বিগুন হয়েছে। ট্রেনে ওঠার পর হঠাৎ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন তিনি।
মমিনুল বলেন, “বাসের তুলনায় বেশি ভাড়া দিয়ে মেট্রোরেলে চড়ি একটু স্বস্তির জন্য। কিন্তু ওঠানামা ও বিশ্রামের সুবিধা না থাকলে সেই স্বস্তি কোথায়?”
গর্ভবতী রোখসানা বেগমের অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। তাঁর স্বামী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, নারীদের জন্য আলাদা কামরা থাকলেও স্ত্রীকে একা পাঠানো কঠিন। আবার সাধারণ কামরার ভিড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
ফার্মগেট থেকে মতিঝিলগামী চাকরিজীবী রইসুল ইসলামের মতে, সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো ছাড়া মেট্রোরেলে যাত্রীসেবার মান নিন্মমুখি। এটি আরও উন্নতি প্রয়োজন।
এছাড়া প্রতিবন্ধী যাত্রী যারা হুইল চেয়ারে চলাচল করেন। তাদের জন্য লিফটের ব্যবস্থা থাকলেও তাদের সহায়তা করার মত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাউকেই চোখে পড়েনি।
ঢাকার মেট্রোরেলেও প্রতিটি স্টেশনে পর্যাপ্ত বসার বেঞ্চ, ছায়া ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, লিফট-এসকেলেটর সচল রাখা, অগ্রাধিকার সারি এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ জরুরি। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের সহায়তায় প্রশিক্ষিত কর্মী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে মেট্রোরেলের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরীফি দাবী করেন, সব স্টেশনেই বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ওপরের প্ল্যাটফর্মে পাখা নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন তিনি।
বিদেশে যাত্রীসেবার উদাহরণ হিসেবে সিঙ্গাপুরের এমআরটি স্টেশনে বয়স্ক ও গর্ভবতীদের জন্য অগ্রাধিকার সারি, বসার জায়গা এবং হুইলচেয়ারবান্ধব সুবিধা রয়েছে।
রূপক/ 27.09.26