মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন এলাকায় ঝড়ের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৯৩ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৫১ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮২ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ২৫ ডলারে।
বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর দিকে এগিয়ে আসা ঝড়ের কারণে উৎপাদন, পরিবহন ও পরিশোধন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকো উপসাগরে সৃষ্ট ঝড়টি আগামী দুই দিনের মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম আটলান্টিক হারিকেনে পরিণত হতে পারে। সম্ভাব্য গতিপথে থাকা উপকূলীয় এলাকাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মোট অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ফলে ঝড়ের প্রভাবে উৎপাদন ও শোধনাগার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে হামলার ঘটনাও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সৌদি আরব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশ হওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির যেকোনো অবনতি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে বাড়তি অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সৌদি আরবের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন এলাকায় ঝড়ের আশঙ্কা সেই স্বস্তিকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কিছু সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের আশপাশে থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স