ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবারের এ কর্মসূচি ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ। নির্দিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও।
রয়টার্স ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছে সিজেপি। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সংগঠনটি এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সমালোচকদের অভিযোগ, সংশোধনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লির কেন্দ্রস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সমাবেশস্থল যন্তর মন্তরের প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে লোহার ব্যারিকেড। একই সঙ্গে যান চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত সমাবেশস্থলের চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা নূপুর প্রসাদ জানিয়েছেন, স্বল্প সময়ের নোটিসে আবেদন করায় সমাবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর ভাষ্য, যন্তর মন্তরে কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সাধারণত অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করতে হয়।
আগের কর্মসূচিতে আয়োজকেরা আইনি নির্দেশনা মানেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নূপুর প্রসাদের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে সিজেপির দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার জন্য পুলিশের অনুমতি নয়, বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাই যথেষ্ট। অনুমতি না পেলেও কর্মসূচি পালনে অনড় রয়েছে সংগঠনটি।
সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, বাধা এলেও শনিবার সকালে তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে যাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কারাবন্দি করা বা গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।
বিবিসি জানিয়েছে, বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। তবে জ্ঞানেশ কুমার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা পদত্যাগের দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে জুলাইয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আলোচনায় আসে সিজেপি। গত সপ্তাহে মুম্বাই এবং বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সমাবেশ করে সংগঠনটি।
কৃষক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় শনিবারের কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সমাবেশে কত মানুষ অংশ নিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি কীভাবে এগিয়েছে, তা নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: রয়টার্স