যদিও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক রোডম্যাপ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে নির্বাচন সামনে রেখে ভেতরে ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে বিএনপি। দলীয় প্রতীক ও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন না থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় একজন করে প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাইয়ে মূলত চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেগুলি হলো- ক্লিন ইমেজ, জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি ত্যাগ ও অবদান এবং নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা। এসব বিষয় যাচাই করে স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রার্থীর নাম সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে মহানগর, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে অনলাইনে ‘জুম মিটিং’ করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব বৈঠকে স্থানীয় সাংগঠনিক অবস্থান, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধসহ নানা বিষয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে না। তবে স্থানীয়ভাবে একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছে দলটি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রতিটি এলাকায় একক প্রার্থী রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত ও সমর্থনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রার্থীর সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থনের বিষয় বিবেচনা করে প্রার্থী বাছাই করা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, দলের বাইরে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তি যদি কোনো এলাকায় শক্ত অবস্থানে থাকেন এবং তার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাকেও বিএনপির সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু দলীয় পরিচয় নয়, ভোটারদের কাছে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও নির্বাচনী সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে কিছু এলাকায় একাধিক প্রার্থীকে প্রস্তুত রাখার কথাও ভাবছে বিএনপি। দলীয় সূত্র বলছে, কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, অযোগ্যতা কিংবা অন্য কোনো কারণে প্রার্থিতা নিয়ে সমস্যা তৈরি হলে যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দল-সমর্থিত প্রার্থীর সংকট না হয়, সে জন্য বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হতে পারে। তবে এ ধরনের একাধিক প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হলে বিকল্প প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন- এমন কৌশল বিবেচনায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, নির্বাচনে কোনো কারণে একজনের মনোনয়ন বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থী প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিটি এলাকায় প্রার্থিতা নিশ্চিত করতেই কোথাও কোথাও একাধিক প্রার্থী রাখার কৌশল নেওয়া হতে পারে।
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপি প্রথমে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ করবে। জেলা কমিটি তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন হলে বিভাগীয় পর্যায়ে পাঠাবে। কোনো পর্যায়ে অসংগতি বা বিরোধ দেখা দিলে বিভাগীয় টিম বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। জটিলতা থাকলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এভাবে তৃণমূল থেকে বিভাগীয় পর্যায় এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত কয়েক ধাপে প্রার্থী যাচাইয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতামত নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি নির্বাচনের আগে দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যন্তরীণ বিরোধ কমিয়ে একক প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার বিষয়ে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব কমিটিকে স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করে গোপনীয় প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপির নেতারা মনে করছেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ কারণে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং ভোটে জয়ের সম্ভাবনাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অরণ্য- ০৮/১০/২৬