৭৫ বছর বয়সে থেমে গেল বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকরের দীর্ঘ অভিনয় যাত্রা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোক নেমে এসেছে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে। সহকর্মী ও দীর্ঘদিনের পরিচিতদের পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত বলিউড তারকা শাহরুখ খান।
নানা পাটেকরের সঙ্গে নিজের প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন শাহরুখ। সেখানে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নানার সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় তাঁর প্রতি এক ধরনের মুগ্ধতা ও সংকোচ কাজ করছিল।
শাহরুখের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম সাক্ষাতে তিনি বারবার নিজের চুল ঠিক করছিলেন। তখন নানা তাঁর হাত সরিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন—শুধু নায়ক হওয়ার চেহারা তৈরিতে নয়, একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাতেই মনোযোগী হওয়া উচিত।
শাহরুখ বলেন, নানা কখনো কাউকে খুশি করার জন্য কথা বলতেন না। মানুষ যা শুনতে চায়, তার বদলে প্রয়োজনীয় কথাটিই সরাসরি বলে দিতেন। তাঁর আচরণ ছিল স্পষ্ট, কখনো রুক্ষ, কিন্তু তার ভেতরে ছিল সততা। আর সেই কঠিন ব্যক্তিত্বের আড়ালেই ছিল অসাধারণ এক হাসি।
নানার সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেছেন শাহরুখ। তাঁর মতে, ভালোবাসা প্রকাশের ধরনও ছিল নানার নিজস্ব। কখনো বকাঝকা করতেন, এমনকি রাগী ভাষায় কথা বলতেন। কিন্তু সেই কঠোরতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকত গভীর স্নেহ।
শাহরুখ লিখেছেন, নানা তাঁর কাছে একই সঙ্গে পথপ্রদর্শক, শিক্ষক, সমালোচক ও বন্ধু ছিলেন। একসঙ্গে ক্যারাম খেলার স্মৃতিও তাঁর মনে বিশেষভাবে জায়গা করে আছে। ক্যারামে নানা একের পর এক ম্যাচ জিতে নিজের আনন্দ উপভোগ করতেন বলেও স্মৃতিচারণ করেছেন শাহরুখ।
আরও কিছু সময় নানার সঙ্গে কাটাতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন তিনি। শাহরুখের কথায়, আরেকবার দীর্ঘ আড্ডা, একটি তর্ক, এক কাপ চা কিংবা ক্যারামের একটি ম্যাচ এসবের কোনো একটি সুযোগ যদি আবার পাওয়া যেত, তাহলে ভালো লাগত।
১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’ সিনেমায় প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করেন শাহরুখ খান ও নানা পাটেকর। এরপর ২০০২ সালের ‘শক্তি’ সিনেমাতেও তাদের একসঙ্গে দেখা যায়। দুটি ছবিই দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছিল।
নানার কাছ থেকে পাওয়া একটি পরামর্শ বিশেষভাবে মনে রেখেছেন শাহরুখ। সেই কথাটি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘নায়ক হওয়ার চক্করে পড়ে অভিনেতা পরিচয়টা হারিয়ে ফেলো না।’
শাহরুখের ভাষায়, নানা শুধু চলচ্চিত্র অঙ্গনেই নয়, অসংখ্য মানুষের মনে একটি শূন্যতা তৈরি করে গেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, হাসি, উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা এবং অভিনয়ের স্মৃতি দীর্ঘদিন মানুষের মনে বেঁচে থাকবে।
দুই বছর আগে এক সাক্ষাৎকারেও শাহরুখের প্রতি নিজের স্নেহের কথা জানিয়েছিলেন নানা পাটেকর। তিনি বলেছিলেন, শাহরুখকে তাঁর খুব ভালো লাগে এবং আজও দেখা হলে শাহরুখ আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মতে, মানুষ অনেক কিছু ভুলে গেলেও শাহরুখ তাঁকে ভুলে যাননি।
গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় প্রিয় ‘নানা’কে বিদায় জানিয়ে শাহরুখের শেষ কথাগুলো যেন সেই সম্পর্কেরই প্রতিচ্ছবি ‘খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলেন, আমার নায়ক, আমার অভিনেতা।’
অরণ্য- ০৮.১০.২৬