কুমিল্লার মেঘনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মো. আলী হোসেনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রমিজ উদ্দিন। তাঁর দাবি, দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে, কিন্তু তিনি আলী হোসেনের গায়ে হাত দেননি।
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ‘মেঘনা উপজেলা নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ওয়াদুদ মুন্সি, সাবেক সদস্য সচিব আজাহারুল হক শাহিন, শাহাবুদ্দিন, ফাতেমা আক্তার হেনা, জাকির হোসেন ও সেলিম সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং কয়েক শ মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনকে লাঞ্ছিত করেন রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। তাঁরা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতির সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেনের ভাষ্য, তিনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সদস্য সচিব। কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ইউএনওর কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি ওসি শহিদুল ইসলাম, রমিজ উদ্দিন লন্ডনীসহ কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখেন। পরে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ ইউএনওর হাতে দিয়ে জানান, কমপ্লেক্সের আটটি দোকানের বিপরীতে ছয় হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে।
তাঁর অভিযোগ, এ সময় রমিজ উদ্দিন তাঁকে সেখানে যাওয়ার কারণ জানতে চান এবং হোমনায় চলে যেতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনকে ভোট দেননি বলেও মন্তব্য করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রমিজ উদ্দিন তাঁর গলা চেপে ধরেন এবং সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি পেছন থেকে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করেন আলী হোসেন। পরে ওসি তাঁকে সেখান থেকে বের করে দেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী প্রথমে বলেন, আলী হোসেনের সঙ্গে তাঁর কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে ইউএনও ও ওসির কাছ থেকে জানতে পরামর্শ দেন তিনি।
তবে ওসি দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কির কথা বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রমিজ উদ্দিন বলেন, আলী হোসেন সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলেছেন বলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তবে আলী হোসেনের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছিল। তখন তিনি তাঁদের দুদিকে সরিয়ে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমি আক্তারও দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে পুরো ঘটনা তিনি খেয়াল করতে পারেননি বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, দাউদকান্দি-মেঘনা আসনসংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে আলী হোসেন ও রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। আলী হোসেন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করলেও রমিজ উদ্দিন তা অস্বীকার করেছেন।
অরণ্য: ১১.১০.২৬